আমাদের ভূবনে আপনাকে
স্বাগতম

আলোর সন্ধানে ছুটে চলা মানুষের এক সহজাত প্রবৃত্তি। এই ছুটে চলার স্রোতে মানুষ ভেসে চলেছে আবহমান কাল থেকে। এই চলার প্রক্রিয়ায় তার অন্তর্নিহিত সত্তায় প্রশ্ন জেগেছে কোথায় ছিলাম আমরা, কোথায়ে চলেছি ছুটে? কোন লক্ষ্যে পোঁছাবার অভিপ্রায়ে এই দৈনন্দিন ছুটে চলা? কি আছে জীবনের শেষ প্রান্তে?

এইসব প্রশ্নের বুদবুদে হাবুডুবু খেয়েই যুগে যুগে মানুষ উত্তর খুঁজেছে মুক্তির আশায় আর অজান্তে বাঁধা পড়েছে ধর্মের দিক-নির্দেশনায়। স্বেচ্ছায়- অনিচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে ধর্মের রীতিনীতির কলা-কৌশলের কাছে। সেই সাথে মনস্তাত্ত্বিক হতাশায় আপ্লুত হয়ে অবশেষে ধর্ম নামক রীতি-নীতির কাছে বন্দী হয়েছে সৃষ্টির সেরা জীব।

একথা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন মানুষকে তার চিন্তা শক্তির স্বাধীনতা দিয়ে । ধর্মকে তিনি চাপিয়ে দেন নাই মানুষের ঘাড়ে। মানুষই ধর্মের সুদক্ষ কারিগর। নিজস্ব মননে, কল্পনাপ্রসূত হয়ে মানুষই ক্রমশ: সৃষ্টি করেছে ধর্ম নামক বিভেদের নীল নকশা। তাই কোন ধর্মের পরিমণ্ডলে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করা অসম্ভব।

জ্যোতির্ময় সেই সৃষ্টিকর্তাকে জানতে হলে আমাদেরকে আলোর অন্বেষণ করতে হবে। যাতে আলোর প্রস্রবণ পথে আমরা খুঁজে পাই সত্যের নির্ভেজাল পথ । মূলত: এ কারণেই আমাদের আত্মপ্রকাশ।  সত্যের সন্ধানে আমাদের ভুবনে আপনাকে স্বাগত জানাই ।

আমাদের সাথে আপনার পথচলা সুগম হোক! 

আমাদের একান্ত অভিপ্রায় যেন আমরা মানুষকে আলোর পথ দেখাতে পারি আর চেপে ধরতে পারি অন্ধকারের কণ্ঠনালী । এ পাতাটিতে আমরা আলোচনা করবো অনেক অজানা সত্য ও তথ্য নিয়ে আর আলোকপাত করবো জীবনের নানা বিষয় সমূহ নিয়ে। সেই সাথে আমাদের অন্বেষণ অব্যাহত রাখবো স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের। আসুন, আমাদের স্থিরীকৃত বদ্ধমূল ধারনা বা ধর্মীয় অনুশাসনকে একপাশে সরিয়ে রেখে অন্বেষণ করি আলোর অন্তিম পথ।  আসুন সত্য জানার আনন্দে আনন্দিত হই। 

আমরা কতিপয় ইমানদার ব্যক্তি যারা ইসলামী অনুশাসনে বেড়ে উঠেছি শৈশব থেকে। অজস্র কুসংস্কার আর ধর্মীয় কুশিক্ষার প্রভাবে আমরাও বিভ্রান্তির শিকার হয়েছিলাম অন্যান্যদের মত। তবে আল্লাহ্‌র অসীম রহমতের গুণে অবশেষে আমাদের চৈতন্যের উদয় হয়েছে। আমরা খুঁজে পেয়েছি আলোর অন্তিম নিশানা। তারই ধারাবাহিকতায় আমরাও চাই সবাই যেন ধর্মীয় অন্ধকার কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহ্‌র প্রকৃত নেয়ামত গ্রহণ করতে পারে। সেইসাথে সমর্পিত হতে পারে তাঁর আরশের পদতলে।

এই চিন্তা-ভাবনার উৎস থেকেই আমাদের পথ চলা। আমাদের একান্ত প্রচেষ্টা আর প্রার্থনা যেন আপনিও খুঁজে পান সত্য পথ ও আলোর প্রস্রবণ ধারা। আমাদের সাধ্যমত আমরা চেষ্টা করে যাবো যেন আপনিও ভাবতে শেখেন, বিশ্লেষণ করতে শেখেন সত্য মিথ্যার তফাৎটুকু। মহান আল্লাহ্‌ পাক আপনার জ্ঞানের পরিধি প্রসারিত করুন আর উন্মোচন করুন আপনার অন্তরের দৃষ্টি যেন আপনি খুঁজে পান তাঁর মমতার স্পর্শ।

আমরা সবাই জানি যে, ধর্মচর্চা করা মানুষের মৌলিক অধিকার। এটা কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চোখ রাঙানির তোয়াক্কা করে না। যুগ যুগ ধরে এদেশের মানুষ ধর্মচর্চা করে আসছে মনে-প্রাণে। আর এই ধর্মের নামেই অন্ধ গোঁড়ামির রজ্জু দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে। এরই সুযোগে ধর্মের দীক্ষাদার বা শিক্ষকেরা বিভিন্ন কৌশলে মানুষের নির্মল অনুভূতিকে নাড়া দিয়ে নিজেদের ইচ্ছাসমূহ চরিতার্থ করার প্রয়াসে ব্যস্ত রয়েছেন।

একথা অনস্বীকার্য যে, মহান রাব্বুল আলামীন মানুষকে “আশরাফুল মখলুকাত” হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। ধর্মের বাহক হিসেবে নয়। মানুষ তার নিজস্ব আবেগে, প্রয়োজনে ধর্মচর্চা করবে এটাই স্বাভাবিক। ধর্মের নামে কেউ অন্যের জীবনকে খবরদারী করবে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। আমরা আলোচনা করি, সমালোচনাও করি। কারণ এটা আমাদের মননশীলতা ও চেতনাকে জাগিয়ে তোলে আর ভুল-ভ্রান্তির প্রাচীরগুলো অতিক্রম করার সুযোগ করে দেয়।

আমাদের এই কর্মকাণ্ড দিয়ে আমরা ইসলাম বা ইসলামিক অনুভূতিকে খাটো করার চেষ্টা করছি না। চেষ্টা করছি সাধারণ ধর্মভীরু ব্যক্তিরা যেন আল্লাহ্‌র কালামের তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা উপলব্ধি করে আল্লাহ্‌র প্রদত্ত পথ অনুসরণ করতে পারে। আর নিজের সুপ্ত চেতনাকে জাগিয়ে তুলে তাঁর প্রতি সত্যিকারের আনুগত্য নিয়ে ফিরে আসতে পারে তাঁর দরবারে। কোন কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা পণ্ডিতের কালাম বিকৃত বা অপব্যাখ্যায় আমরা অন্ধের মতো আচরণ করেছি বহুকাল।

আল্লাহ্‌ পাক তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে ভালবাসেন। আমরা সেখানে বিভেদ সৃষ্টি করি ধর্মের গোঁড়ামি দিয়ে। স্রষ্টা তাঁর কালামেই দিয়েছেন আলোতে চলার বিধান। সেইজন্যে কালামের প্রকৃত রূপ জানা অপরিহার্য। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় আমরা চেষ্টা করবো সমস্ত বিভ্রান্তি কাটিয়ে ওঠার। এতে যদি আপনি উপকৃত হন তাহলে আমরা আনন্দিত। যদি ক্ষুণ্ণ হন তাহলে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। আল্লাহ্‌র অপরিসীম রহমত আপনার জীবনকে প্রফুল্ল রাখুক এই আমাদের কামনা।

আমিন।।